ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: ৪ জনের যাবজ্জীবন।

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: ৪ জনের যাবজ্জীবন।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদ্রাসা ছাত্রী রোজিনা আক্তারকে (১৫) ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যায় ঘাতক ও এক নারীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও প্রত্যেকের দশ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে দণ্ড দেয়া হয়েছে।বুধবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ১১টার সময়

লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।মামলার রায়ের সময় ঘাতক আনোয়ার হোসেন কৈলা ও আখি আক্তার রুমা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হুমায়ুন কবির ও বাহার পলাতক ছিলেন।মামলার পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন এঘটনা ও রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আনোয়ার হোসেন কৈলা একই এলাকার মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে, হুমায়ুন কবিরও একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে, আখিঁ আক্তার একই এলাকার আব্দুল মতিনের মেয়ে এবং মোঃ বাহার বামনী ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের মাঝি বাড়ির মৃত মোস্তফার ছেলে।তবে মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবি রফিক উল্যা ও আব্দুল আহাদ শাকিল বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

আদালত সূত্র জানা যায়, নিহত মাদরাসা ছাত্রী রোজিনা আক্তার পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকার বয়াতি বাড়ির মৃত সফিক মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় হযরত খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।। রোজিনা ও সোর্স আঁকি আক্তার একই বাড়ির এবং ঘাতক আনোয়ার হোসেন কৈলা পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা (সর্দার বাড়ি) । আনোয়ার হোসেন রোজিনাকে পছন্দ করতেন।

২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে মাদরাসা ছাত্রী রোজিনা পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় সাবেক পৌরসভা কার্যালয় ভবনের সামনের সড়কে আনোয়ারের সোর্স আঁখি অপেক্ষা করছিলেন। এক পর্যায়ে ফুসলিয়ে আঁখি রোজিনাকে বাড়ির পাশ্ববর্তী বাগানের দিকে নিয়ে যায়। আনোয়ারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে আখি এ সহযোগিতা করে। সেখানে আনোয়ারসহ আরো তিন সহযোগী ছিলো। এক পর্যায়ে আনোয়ার রোজিনাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। রোজিনা তা প্রত্যখ্যান করলে তারা ধস্তাধস্তি করে।

পরে অন্যদের সহযোগীতায় আনোয়ার রোজিনাকে ধর্ষণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সেসময় গাছের সঙ্গে গলার ওড়না পেছিয়ে রোজিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাগানে মরদেহ ফেলে রাখে। পরদিন দুপুরে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন এসে রোজিনার মরদেহটি সনাক্ত করে।এঘটনায় তার মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এমামলা দীর্ঘ তদন্তের পর ১২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে ঘাতক আনোয়ারসহ চারজনকে সশ্রম দণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।।


Leave a Reply

Your email address will not be published.