বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ভারতে গ্রেপ্তার।

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ভারতে গ্রেপ্তার।

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। শনিবার সকালের দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা।

এর আগে, শুক্রবার দিনভর কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার অন্তত ৯টি স্থানে অভিযান চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

জানা যায়, দেশের চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা সরিয়েছেন। এমন তথ্যই ওঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক প্রতিবেদনে। যে চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকাগুলো সরিয়েছেন সেগুলো হচ্ছে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এফএএস) থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়।

গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৯টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে ভারতের অর্থ-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। তারা কয়েকটি অভিজাত বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছেন। বাড়িগুলো থেকে জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পিকে হালদারের ২০ থেকে ২২টি বাড়ি আছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

পিকে হালদারের আয়কর আইনজীবী ছিলেন সুকুমার মৃধা। পিকে হালদারের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সুকুমার মৃধাকে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে। দুদক তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুকুমার মৃধার বিশাল বিলাসী বাড়ির সন্ধান পেয়েছে ভারতের ইডি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মৃধাকে তারা মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে চিনতেন। পিকে হালদার ও সুকুমার মৃধা অশোকনগরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী। ইডি ধারণা করছে, এই দু’জনের দীর্ঘদিনের যোগসাজশে এনআরবির বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পিকে হালদার কাণ্ডে যে ৮৩ জনকে নিয়ে তদন্ত করছে দুদক

এরইমাঝে পিকে হালদারের সঙ্গে অর্থপাচারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে সন্দেহভাজন ৮৩ জনের তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করেছে বিএফআইইউ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পি কে হালদারের সহযোগী সন্দেহজনক ৮৩ ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ আছে। পি কে হালদার ও তার ৮৩ সহযোগী ৪৩টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দিয়ে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছে।

বিএফআইইউ’র ওই তালিকায় নাম আসা সন্দেহভাজন ৮৩ ব্যক্তি হলেন- প্রণবেন্দু হালদার ও লীলাবতি হালদারের সন্তান প্রশান্ত কুমার হালদার, গুলশানের আ. ফয়েজ মুজিবর রহমানের দুই ছেলে রেজাউর রহমান ও মিজানুর রহমান এবং মেয়ে সৈয়দা রুহি গজনভী, গুলশানের সায়েদুর রহমান খানের ছেলে এম. নুরুল আলম, বনানী ডিওএইচএস’র শামসুল আলমের ছেলে মো. নওশের উল ইসলাম, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম, বনশ্রীর বিমলাংশু চৌধুরী আশুতোষ চৌধুরী, বনশ্রীর নারায়ণ জুমদারের স্ত্রী উৎপল মজুমদার, বনানী ডিওএইচএস’র বসুদেব ভট্টাচার্য ও তার স্ত্রী পাপিয়া ভট্টাচার্য, পিকে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, বগুড়া ক্যান্টনমেন্টের কাজী মমরেজ মাহমুদ ও তার স্ত্রী আফরোজা সুরাইয়া মজুমদার, ঝালকাঠি রাজাপুরের প্রশান্ত দেউরি, গেন্ডারিয়ার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, উত্তরার স্বপন কুমার মিস্ত্রি ও তার স্ত্রী পূর্নিমা রানী হালদার, মিরপুরের অমিতাভ অধিকারী, লালমাটিয়ার রাজিব সোম ও তার স্ত্রী শিমু রায়, পিরোজপুরের রতন কুমার বিশ্বাস।

আরও আছেন গ্রীন রোডের ওমর শরীফ, কুমিল্লার বরুড়ার উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও তার স্ত্রী অনিতা কর, উত্তরার উজ্জ্বল মল্লিক, নড়াইল লোহাগড়ার মোস্তাইন বিল্লাহ, পিরোজপুরের শাহ আলম শেখ, অনঙ্গ মোহন রায়, উত্তরার সোমা ঘোষ, বরিশাল বাকেরগঞ্জের অমল চন্দ্র ঘোষ, গাজীপুর কালিগঞ্জের সুবেদ কুমার ভৌমিক, নড়াইলের শেখ মইনুল ইসলাম মিঠু, সঞ্জীব কুমার হালদার, উত্তরার সুব্রত দাশ ও তার স্ত্রী সুভ্রা রানী ঘোষ, রামপুরা হাজিপাড়ার তোফাজ্জ্বল হোসেন, পিরোজপুরের স্বপন কুমার মিস্ত্রির ভাই উত্তম কুমার মিস্ত্রি, উত্তম কুমার মিস্ত্রির স্ত্রী অতশী মৃধা, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী এবং মোহাম্মদ আবু রাজিব মারুফ।

সন্দেহভাজনদের মধ্যে আরও আছেন- বাগেরহাট চিতলমারীর শঙ্খ ব্যাপারি (বর্তমানে গ্রেফতার), রাম প্রসাদ রায়, ইরফান উদ্দীন আহমেদ, শাহনাজ বেগম, জামিল মাহমুদ, ইমাম হোসেন, ধানমন্ডির অভিজিত অধিকারী, সুকুমার সাহা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা, ফেনী সদরের একেএম শহীদ রেজা, শওকত রেজা, জোবেদা বেগম, নাহিদ রেজা, একেএম হারুন অর রশিদ, মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, মো. শাহাদাত হোসেন, জামাল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, রাম প্রসাদ, শাহ্ আবরার ফাইয়াজ, মো. দেলওয়ার হোসেন, মিলন কুমার দাশ, পিরোজপুর সদরের অমল কৃষ্ণ দাস, বাগেরহাট মোড়লগঞ্জের মশিউর রহমান, পিরোজপুর সদরের সাব্বির আহমেদ, মো. মনিরুল ইসলাম, আসমা সিদ্দিক, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সোলায়মান চৌধুরী, মো. কামরুজ্জামান, নিকুঞ্জের মো. ইকবাল সাইদ, সিরাজগঞ্জ বেলকুচির অরুন কুমার কুন্ডু, মো. সিদ্দিকুর রহমান, মাহফুজা রহমান বেবী, ইনসান আলী শেখ, হাফিজা খানম, এনএম পারভেজ চৌধুরী, প্রশান্ত কুমার হালদারের মা লীলাবতী হালদার, অবন্তিকা বড়াল (বর্তমানে গ্রেফতার), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ঝারামপুরের মো. রেজাউল করিম এবং জেকে ট্রেড ইন্টারন্যাশনালে সত্ত্বাধিকারী ইরফান আহমেদ খান।


Leave a Reply

Your email address will not be published.