কচুর লতি বিক্রি করে ভাইরাল অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক।

কচুর লতি বিক্রি করে ভাইরাল অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক।

কৃষকরা উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল নিয়ে বাজারে এসেছেন। কেউ কলা, কেউ ডাটা আবার কেউ লাউ-শসা বিক্রি করছেন। ক্রেতারাও তাদের পছন্দের সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু এই বাজারে বসেই কচুর লতি বিক্রি করছিলেন ড. আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্স নামের এক অধ্যাপক!

বিষয়টি দেখে অনেকে আশ্চর্য হয়েছেন। কেউ ছবিও তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কচুর লতি নিয়ে বসে থাকা সেই অধ্যাপকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুলের বাজারে। লতি বিক্রি করা সেই শিক্ষক বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান। পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করলেও কৃষিকে ভালোবেসে তিনি রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন।

ঘটনার পর থেকেই কচুর লতি বিক্রি করা অবস্থায় অধ্যাপকের ছবিটি নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অধ্যাপক হয়েও তার কৃষিকাজ এবং সাধারণ জীবনকে বাহবা দিচ্ছেন সবাই।

ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অনসাম্বল থিয়েটারের সভাপতি আবুল মনসুর ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘কেউ হয়তো ভাবতেই পারেন, ছবির মানুষটি এমনিতেই বসে আছে। কিন্তু না, উনি নিজের উৎপাদিত কৃষিপণ্য গ্রামীণ হাটবাজারে বসে বিক্রি করছেন। ছবিতে দেখতে পাওয়া লোকটির নাম ড. আবু বকর সিদ্দিক। ডাকনাম প্রিন্স। লোকটি একজন আপাদমস্তক কৃষক। শহুরে আয়েশী জীবন ত্যাগ করে গ্রামেই নিয়মিত বসবাসে অভ্যস্ত হয়েছেন। দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, এমবিএ এবং পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।’

আবুল মনসুরের এই পোস্টটি তৎক্ষণাৎ ভাইরাল হয়ে যায়। ওই পোস্টে নাঈমা আফরিন তৃষা নামের একজন লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। তারই উদাহরণ তিনি। শ্রদ্ধামাখা ভালোবাসা ও শুভ কামনা রইল।’

রাহাতুল ইসলাম নামে আরেক তরুণ লেখেন, ‘সুপ্রিয় স্যার, আপনি সেরা।’

ছবিটি শেয়ার করে পোস্ট দিয়েছেন ত্রিশালের কাঁঠাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমানও। তার পোস্টটিও ভাইরাল হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যাপক প্রিন্স বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুরের বাসিন্দা। তার বাবা ছিলেন একজন সেনা কর্মকর্তা। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ ঢাকায় আর্মি কলোনিতে থাকতেন। ২০০২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরে ২০০৮ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবি থেকে কৃষি ব্যবসায় এমবিএ ডিগ্রি নেন। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল এবং ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিও করেন তিনি।

বর্তমানে বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান প্রিন্স। পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইট গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। কৃষিকে ভালোবেসে এই গ্রামেই তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ৮ একর জমিতে গড়ে তুলছেন বিশাল কৃষি খামার।

নিজের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরে ৬ মাস ছুটি নিয়ে খামারে কৃষিকাজ করেন প্রিন্স। স্থানীয় প্রায় সবধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন তিনি।

কচুর লতি বিক্রি করে ভাইরাল অধ্যাপক
প্রতি কেজি লতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন প্রিন্স
অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বাজারে ১৬ কেজি কচুর লতি নিয়ে গিয়েছিলাম। পাইকার বলেছিল ৪০ টাকা। কিন্তু বাজারে বসে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তবে তিনজনের কাছে টাকা কম থাকায় দাম কম নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মানুষ। কে কোন পর্যায়ে আছি সেটা বড় বিষয় না। এ ছাড়া নিজের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই।’


Leave a Reply

Your email address will not be published.