পুলিশের সামনেই সংখ্যালঘু পরিবারকে মারধর করলেন কাউন্সিলর ও তার স্ত্রী।

পুলিশের সামনেই সংখ্যালঘু পরিবারকে মারধর করলেন কাউন্সিলর ও তার স্ত্রী।

মাদারীপুরের কালকিনিতে পুলিশের সামনে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা ও মারধর করেছেন কালকিনি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, তার স্ত্রী ও সন্তানেরা। গতকাল বুধবার বিকেলে কালকিনি উপজেলার নয়াকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তবে কাউন্সিলর আনোয়ারের দাবি, ওই পরিবারের লোকজন তাকে আগে আক্রমণ করেছিলেন। তার লোকজন প্রতিরোধ করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী পরিবারটি কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযোগটি রাত ১০টার দিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ।

পরিবারটির ওপর হামলার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী রিক্তা বেগম ও তাদের ছেলেরা ওই পরিবারের সদস্যদের মারধর করছেন।

ফলো করুন-
ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন সমকাল ইউটিউব
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কাউন্সিলরের স্ত্রী রিক্তা বেগম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ঝন্টুদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। কাউন্সিলর আনোয়ার তখন পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় একটি ইট দিয়ে উজ্জ্বলের মাথা ফাটিয়ে দেন কাউন্সিলর আনোয়ার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নয়াকান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঝন্টু চন্দ্র মণ্ডল তার পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি ধান মাড়াই করার জন্য প্রতিবেশী এক ব্যবসায়ীর থেকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ভাড়া আনেন ঝন্টু। ধান মাড়াই করার জন্য একই মেশিন ভাড়া করেন কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন। মাড়াইয়ের কাজ করতে ঝন্টুর থেকে মেশিনটি নিতে আসেন আনোয়ার। এ সময় ঝন্টু তার ধানমাড়াই শেষ না হওয়ায় ওই মেশিন কাউন্সিলর আনোয়ারকে দিতে অপারগতা জানান। এর জের ধরে আনোয়ারের সঙ্গে ঝন্টুর কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় ঝন্টুকে ধানমাড়াই বন্ধ রাখতে বলা হয়।

ঝন্টুর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের তিন সদস্য দুই পক্ষের কথা শুনে সমাধান দিতে ঝন্টুর বাড়িতে আসেন। এ সময় পুলিশ ঝন্টুদের ধানমাড়াই শুরু করতে বললে কাউন্সিলর ও তার স্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে ঝন্টুকে মারধর শুরু করেন। ঝন্টুর ছেলে তাদের বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করেন কাউন্সিলর আনোয়ারের লোকজন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.