জমিতে ধান কেটে না দেওয়ায় শ্রমিককে গলাকেটে হত্যা।

জমিতে ধান কেটে না দেওয়ায় শ্রমিককে গলাকেটে হত্যা।

নেত্রকোনার মদন থানাধীন নায়েকপুরে জমিতে ধান কেটে না দেওয়ায় খায়রুল মিয়া (২৯) নামে এক শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর মালীবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর।

এর আগে, বুধবার (১১ মে) দিনগত রাতে গাজীপুরের গাছা থানাধীন শরীফপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- শফিকুল ইসলাম (২৩) ও মোস্তাকিন ইসলাম (২০)।

গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, শফিক ও মোস্তাকিনের দুলাভাই হক মিয়া একই এলাকায় ৪০ শতাংশ জমি কিনে ধান চাষ করেন। জমি বিক্রেতা এখলাছ মিয়ার ভাই এলাই মিয়া ওই জমির অর্ধেক অংশের মালিকানা দাবি করে তার দুলাভাইকে ধান কাটতে নিষেধ করে।

তখন তাদের দুলাভাই হক মিয়া তার লোকজনসহ ভিকটিম খাইরুল মিয়ার কাছে গিয়ে অন্যান্য শ্রমিক নিয়ে জমির ধান কেটে দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটতে গেলে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সম্ভাবনা থাকায় খাইরুল মিয়া অপারগতা প্রকাশ করেন। ধান কেটে না দিলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে হক মিয়া চলে যান।

মুক্তা ধর আরও বলেন, গত ৫মে সকালে খাইরুল মিয়া তার গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন। সে সময় আসামিরা এসে দেখেন ধান না কেটে খাইরুল মিয়া ঘাস কাটছেন। ঘাস কাটা বন্ধ করে জমির ধান কাটতে বললে খাইরুল আবারও অপারগতা প্রকাশ করেন।

এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে খাইরুলকে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে খাইরুলের হাতের ঘাস কাটার কাস্তে ছিনিয়ে নিয়ে তা দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন শফিকুল। তখন অন্য আসামিরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

খাইরুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.